Tuesday, 13 December 2016

বাংলাদেশ পুলিশ

শান্তি শপথে বলীয়ান বাংলাদেশ পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, নির্যাতিত মানুষের পাশে বন্ধুর মতো দাড়ানো এবং অপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে থাকে। বাংলাদেশ পুলিশের হেড কোয়ার্টার গুলিস্তানের নগর ভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। ঢাকা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশকে সহায়তা এবং বাংলাদেশের মানুষকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় আবদ্ধ করতে আরও রয়েছে – র‍্যাব, ডিবি, এসবি, সিআইডি, বিট পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশ। বর্তমানে অনলাইনে জিডি করা যায়। এছাড়া নিপীড়িত জনগণকে তাৎক্ষণিক পুলিশি সেবা প্রদান করার জন্য চালু হয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। পুলিশ বাহিনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, ইমিগ্রেশন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। 
 
পুলিশী সেবা পেতে
ঔপনিবেশিক আমলে পুলিশ বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, একটি স্বাধীন দেশে পুলিশ বাহিনী জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার কথা। একারণে এখন পুলিশ ফোর্স না বলে পুলিশ সার্ভিস বলা হয়ে থাকে।
কিন্তু বিভিন্ন প্রয়োজনে কিভাবে পুলিশের সেবা নিতে হয়, কোথায় কি প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ করতে হয়, ইত্যাদি তথ্য ঠিকমত না জানার কারণে অনেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনে বা বিপদে সহজে পুলিশের দারস্থ হন না। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের সাহায্য নেয়ার প্রক্রিয়াটি খুব বেশি জটিল নয়। আবার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নেয়া, পাসপোর্ট করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। এসব বিষয় চিন্তা করে পুলিশের সেবা আর সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য থাকছে এখানে।
 
পুলিশের বিভাগসমূহ
বাংলাদেশ পুলিশের বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য এর কার্যক্রমকে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। বিভাগগুলো হচ্ছে; সোয়াত, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, রেল পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‍্যাব, এসবি , ডিবি এবং সিআইডি। পুলিশের এই বিভাগগুলোর দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এদের বিভিন্ন দপ্তরের ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য থাকছে এখানে।
 
ফোন নম্বর
যেকোন প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিতে বা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে সঠিক জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ করা জরুরি। এই যোগাযোগের কাজটি সহজ করে দেবার লক্ষ্যে পুলিশ সদরদপ্তরসহ র‍্যাব, এসবি, ডিবি, সিআইডি, প্রভৃতি বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন কর্মকর্তার ফোন নম্বর থাকছে এ বিভাগে।
 
পুলিশের স্থাপনা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্থাপনাগুলোর কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কথা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শক্তির মূল কেন্দ্র এটি। এখানে মেট্রোপলিটন পুলিশের অস্ত্র, গোলাবারুদ, যানবাহনসহ বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম রাখা হয়। পুলিশ কনস্টেবলদের ব্যারক এবং প্যারেড গ্রাউন্ডটিও এখানে।
এছাড়া নগরভবন সংলগ্ন পুলিশ সদরদপ্তর, রমনা ও উত্তরার পুলিশ কমপ্লেক্স, পুরনো ঢাকার লালবাগ দূর্গ সংলগ্ন মিল ব্যারাক, মিরপুরের পুলিশ স্টাফ কলেজ ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়। অবশ্য পুলিশ সদরদপ্তর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোন স্থাপনা নয়। মিল ব্যারকে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় আর পুলিশ স্টাফ কলেজে মূলত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের থানা সংখ্যা ৪১ টি; মোট ৮টি ডিসি অফিসের অধীনে থানাগুলো পরিচালিত হয়। পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে  ৫২টি এবং পুলিশ বক্স রয়েছে ৬৯টি।
 
বিভিন্ন ধারা
দন্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা
বাংলাদেশের আইনকানুন সমূহকে প্রধানত তিন শ্রেণীতে চিহ্নিত করা যায়; বাংলাদেশ দন্ডবিধি, ফৌজদারী কার্যবিধি, এবং দেওয়ানী দন্ডবিধি। ফৌজদারী কার্যবিধি এবং দন্ডবিধিকে আলাদাভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়, এগুলো একে অপরের উপর নির্ভরশীল। অবশ্য এসব ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিশেষ আইন তৈরি হয়েছে।  বিস্তারিত
 
ঢাকার থানাগুলো
প্রাচীন ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে দস্যুদের আক্রমণে যখন রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যহত হতে শুরু করে তখন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার লক্ষ্যে পুলিশ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মৌর্য আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ঘাঁটি বা আধুনিক থানা স্থাপিত হয়। অবশ্য অনেকে মনে করেন এই থানা বা চৌকি পদ্ধতি মুসলিম শাসনামলে প্রবর্তিত হয়েছে। মোগল শাসনামলে একজন ফৌজদারের তত্ত্ববধানে থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হত। বৃটিশ শাসনামলে মোগল আমলের থানা ও কতোয়াল পদ্ধতি বহাল রেখে পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়।
 
এখন বাংলাদেশ পুলিশের যেকোন থানায় সার্বিক দায়িত্বে থাকেন ওসি (অফিসার ইন চার্জ)। তিনি একজন ইন্সপেক্টর র‍্যাংকের কর্মকর্তা। থানায় একই র‍্যাংকের আরও কর্মকর্তা থাকেন। তাঁদের বলা হয় ইন্সপেক্টর তদন্ত বা ইন্সপেক্টর ইনভেষ্টিগেশন। থানার সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে যাঁরা তদন্ত করেন তাঁরা ইন্সপেক্টর তদন্তের অধীনে কাজ করেন। থানার সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে যিনি সিনিয়র তাকে বলা হয় অপারেশন অফিসার (বাইরের জেলা সমূহে অপারেশন অফিসারের পরিবর্তে সেকেন্ড অফিসার বলা হয়) একজন সাব-ইন্সপেক্টর পালাক্রমে আট ঘন্টা দায়িত্ব পালন করেন। একটি থানার সব সাব-ইন্সপেক্টরই পালাক্রমে ডিউটি অফিসার হিসেবে কাজ করেন। আপনি কোন কারণে থানায় ফোন করলে ডিউটি অফিসারই ফোন রিসিভ করার সম্ভাবনা বেশি। মামলা নেয়া, জিডি রেকর্ড করা, জরুরী ঘটনায় ফোর্স পাঠানো ও ঊর্ধ্বতনদের জানানো, ইত্যাদি কাজ ডিউটি অফিসাররাই করে থাকেন।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এলাকাকে মোট আটটি ক্রাইমজোনে ভাগ করা হয়েছে। জোনগুলো হচ্ছে ওয়ারী, লালবাগ, রমনা, মতিঝিল, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশানএবং  উত্তরা।এই জোনগুলোর তদারকি কর্মকর্তা হচ্ছেন এসি। আর আটটি জোনের অধীনে মোট ৪১ থানা আছে ঢাকায়। 
 


No comments:

Post a Comment