ইসলামী যৌন আইনশাস্ত্র বা যৌনতা বিষয়ক ফিকহ .......(ইংরেজি: Islamic sexual jurisprudence) বলতে সেইসব ইসলামী অনুশাসন বোঝায় যেগুলো দ্বারা মুসলিমদের যৌনাচার নিয়ন্ত্রিত হবে। এইসব অণুশাসন বহির্ভুত সকল প্রকার যৌনাচার ইসলামী মতে নিষিদ্ধ বা হারাম। মানব জীবনের যৌন চাহিদা ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত কিন্তু যৌনাচারের পন্থা সম্পর্কে রয়েছে অনুশাসন।মানুষের বিবিধ যৌনাচার অনুমোদনযোগ্য কি-না তা দুটি বিষয় থেকে
অনুমানযোগ্য। প্রথমত: যৌনাচারের মূল উদ্দেশ্য বংশবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত:
নারী ও পুরুষ কেবল রীতিসিদ্ধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে যৌনাচারের প্রাধিকার
অর্জন করে। ইসলামে যৌনতা বিষয়ক নিয়মাবলি ইসলামী প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন, ইসলামের নবী মুহাম্মদ-এর বাণী ও কর্ম যা হাদীস নামে পরিচিত, ইসলামিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রদত্ত ফতোয়া প্রভৃতিতে ব্যাপক ও বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে, যা নারী ও পুরুষের মাঝে নিয়মতান্ত্রিক যৌন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত। যদিও অধিকাংশ ঐতিহ্য সন্ন্যাসদশা ও কৌমার্যকে নিরুৎসাহিত করে থাকে তবুও সকল ঐতিহ্যেই লিঙ্গসমূহের মধ্যে যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর সতীত্ব ও শালীনতাকে
উৎসাহিত করে, যা এই বিষয়টিকে তুলে ধরে যে, তাদের ইসলাম স্বীকৃত অান্তরিক
সম্পর্ক জীবনের জন্য একটি পরিবেষ্টনীস্বরূপ এবং যৌন কর্মকাণ্ড থেকেও অনেক
বিস্তৃত, যা বিবাহের জন্য ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত। বিবাহের বাইরে লিঙ্গ
পার্থক্যকরণ ও শালীনতার এই চেতনা ইসলামের বর্তমান পরিচিত বৈশিষ্ট্যের মাঝে
দেখতে পাওয়া যায়, যেমন ইসলামী পোশাকের ব্যাখ্যা এবং লিঙ্গ বিভাজনের
মূল্যবোধসমুহ।
বিবাহবহির্ভূত যৌনতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রবল হলেও স্বয়ং যৌন কর্মকাণ্ড ইসলামে কোন নিষিদ্ধ বিষয় নয়।ভালোবাসা ও নৈকট্যের মহৎ উপকারিতা হিসেবে কুরআন ও হাদিসে অণুমোদিত যৌন সম্পর্কসমূহ বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। এমনকি বিয়ের পরেও কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছেঃ কোন পুরুষ তার স্ত্রীর রজঃস্রাবকালীন সময়ে এবং সন্তানপ্রসবের পর একটি নির্ধারিত সময়কালে তার সাথে সঙ্গম করতে পারবে না। পায়ুতে লিঙ্গ প্রবেশকরণও তার জন্য পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। গর্ভপাত (গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যতিরেকে) এবং সমকামিতার মত কর্মকাণ্ড ও আচরণও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি অণুমোদিত।
এছাড়া হাদীসে আছে
বিপরীতভাবে, যৌনসঙ্গমের একটি ক্ষেত্র যা সাধারণত নিষিদ্ধ তা হল পায়ুসঙ্গম।
সকল মুসলিম আইনবিদই একমত যে নিজ স্ত্রীর সাথেও পায়ুকাম নিষিদ্ধ, যার ভিত্তি হল এই হাদিসটি :
বর্ণিত আছে যে, মদিনার ইহুদিগণ বলতো যে, কেও যদি তার স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে জরায়ুপথে সঙ্গম করে তবে তার সন্তান ট্যাড়া চোখ নিয়ে জন্মাবে। সে সময়ে একদিন ওমর ইবনুল খাত্তাব নবী মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি!" মুহাম্মাদ (সা) প্রশ্ন করলেন, "কি তোমাকে ধ্বংস করেছে?" তিনি উত্তরে বললেন, "গত রাতে আমি আমার স্ত্রীকে পেছন দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছিলাম।," অর্থাৎ তিনি পেছন দিক থেকে তার স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সহবাস করেছিলেন।
নবী (সা) তাকে কিছু বললেন না। এরপর এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলঃ
এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী মুহাম্মাদ (সা) ওমর বিন খাত্তাবকে উত্তর দেন, "সামনে বা পেছনে যে কোন দিক থেকে [নিজের স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সংগম কর], কিন্তু পায়ুপথকে পরিহার কর এবং রজস্রাবকালে সঙ্গম থেকে বিরত থাকো।" (আহমাদ এবং তিরমিজী হতে বর্ণিত)
কুরআনের ২৪ (সূরা নূর):২-৩ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ইসলামী আইনে বিয়ে এবং উপপত্নীত্ব ব্যতীত অন্যান্য যৌন সম্পর্কসমূহ জিনা (ব্যভিচার) হিসেবে নিষিদ্ধ। উক্ত আয়াতসমূহে আরও বলা হয়েছে, অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে একশতটি বেত্রাঘাত প্রদান করতে হবে এবং উক্ত ব্যভিচারী নারী বা পুরুষ অপর ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকেই শুধুমাত্র বিয়ে করতে পারবে; পাশাপাশি বিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে (পরকীয়া) পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।ব্যভিচারের অভিযোগ প্রমাণ প্রসঙ্গে সূরা নিসার ১৫-১৬ আয়াতে চার জন পুরুষ সাক্ষী হাজির করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এবং সূরা নূরের ৪-৫ আয়াতের বলা হয়েছে যে, চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে অপারগ হলে অভিযোগকারীকে আশিটি বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রদান করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী আইনে উপপত্নীত্ব হল একমাত্র যৌনতা যা বিবাহবহির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও বৈধ বলে স্বীকৃত। মালিক ইবনে আনাস একটি বর্ণনায় বলেন যে, "ওমর বিন খাত্তাব বলেছেন যে যখন কোন কৃতদাসী তার মনিবের সন্তান জন্ম দেবে তখন সেই দাসী একজন "উম্মে ওয়ালাদ"-এ পরিণত হবে (সন্তানের মা, উপপত্নী)।"
বিবাহবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধকারী আইনের ন্যায়, কুরআন নারীদের কিছু শ্রেণীকে নির্ধারিত করেছে যাদের সাথে সঙ্গম করা পুরুষদের জন্য রহিত করা হয়েছে। সূরা নিসার ২২-২৪ নং আয়াতে মাতা, কন্যা, বোন, খালা, ফুফু, ভাগ্নি, ভাতিজি, দুধমাতা, দুধ্মাতার কন্যা, স্ত্রীর মাতা, স্ত্রীগণের অন্য স্বামীর কন্যাগণ, পুত্রদের স্ত্রীগণ এবং ইতোমধ্যে বিবাহিত নারীদেরকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি, সূরা বাকারার ২২২ আয়াতে ঋতুবর্তী নারীদের সঙ্গে সঙ্গম করতে নিষেধ করা হয়েছে।
শিয়া মুসলিমদের মতানুযায়ী, নবী মুহাম্মাদ নিকাহ মুতাহ নামক নির্দিষ্টকালের জন্য বিয়ের অণুমতি দিয়েছিলেন — যা ইরাক ও ইরানে এখনো সেখানকার যৌনকর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ পতিতাবৃত্তির বিকল্প বৈধ মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে সুন্নি মুসলিমগণের বক্তব্য হল, মুতাহ বিয়ের চর্চা নবী মুহাম্মাদ নিজেই বাতিল করেছিলেন এবং খলিফা আবু বকরের সময় তা পুনরাবির্ভাব ঘটার পর খলিফা ওমর পুনরায় এটি নিষিদ্ধ করেছিলেন।
এর সমর্থনে অন্যান্য হাদিসগুলো হল:
বিবাহবহির্ভূত যৌনতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রবল হলেও স্বয়ং যৌন কর্মকাণ্ড ইসলামে কোন নিষিদ্ধ বিষয় নয়।ভালোবাসা ও নৈকট্যের মহৎ উপকারিতা হিসেবে কুরআন ও হাদিসে অণুমোদিত যৌন সম্পর্কসমূহ বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। এমনকি বিয়ের পরেও কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছেঃ কোন পুরুষ তার স্ত্রীর রজঃস্রাবকালীন সময়ে এবং সন্তানপ্রসবের পর একটি নির্ধারিত সময়কালে তার সাথে সঙ্গম করতে পারবে না। পায়ুতে লিঙ্গ প্রবেশকরণও তার জন্য পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। গর্ভপাত (গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যতিরেকে) এবং সমকামিতার মত কর্মকাণ্ড ও আচরণও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি অণুমোদিত।
পরিচ্ছেদসমূহ
- ১ বয়ঃসন্ধি
- ২ শালীনতা
- ৩ বৈবাহিক যৌনাচার
- ৪ যৌনতায় সীমারেখা ও বিধিনিষেধসমূহ
- ৫ পবিত্রতা অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
- ৬ উপবাস এবং রমজান
- ৭ বিবাহবহির্ভূত যৌনতা
- ৮ পতিতাবৃত্তি
- ৯ সডোমি
- ১০ সমকাম
- ১১ উপপত্নী
- ১২ ধর্ষণ
- ১৩ মুখমৈথুন
- ১৪ স্বমেহন
- ১৫ রাত্রিকালীন নির্গমন
- ১৬ রজঃস্রাব
- ১৭ জন্মনিয়ন্ত্রণ
- ১৮ গর্ভপাত
- ১৯ আরও দেখুন
- ২০ তথ্যসূত্র
- ২১ বহিঃসংযোগ
বয়ঃসন্ধি
মূল নিবন্ধগুলি: ইসলাম ও শিশু, ইসলামী ধর্মতাত্ত্বিক আইনশাস্ত্র, খৎনা, খৎনা (ইসলাম) এবং নারী খৎনার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি § ইসলাম
বালিগ বা বুলুগ হল সেই ব্যক্তি যে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে এবং যার উপর ধর্মীয় আইন ও বিধিবিধান কার্যকর হয়েছে।বিয়ে সম্পর্কিত প্রসঙ্গে, বালিগ শব্দটি হাত্তা তুতিকাল-রিযাল নামক আরবি
আইনগত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অর্থ একজন নারী যৌনসঙ্গমের জন্য
শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার বিয়ে দেয়া যাবে না। সে
অর্থে, বালিগ বা বালাগাত বলতে যৌন বয়ঃপ্রাপ্তিতে
পৌছানোকে বোঝায়, যা রজঃস্রাব শুরুর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। এই দুই মতবাদের
সঙ্গে সম্পর্কিত বয়স মিলে যেতে পারে, কিন্তু তা মিলতেই হবে এমন কোন বাধকতা
নেই। একমাত্র "রুশদ" নামক একটি পৃথক পর্যায়ে বা নিজস্ব সম্পত্তি
নিয়ন্ত্রণের জন্য বুদ্ধিমত্তাগত বয়ঃপ্রাপ্তি লাভের পর কোন নারী তার মোহর পাবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স আনুমানিক প্রায় ১২ বছর এবং লক্ষণ না পেলে আনুমানিক ১৫ চন্দ্রবছর
বা সাড়ে ১৪ বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির
বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলো হল বয়ঃসন্ধিক কেশোদ্গম, স্বপ্নদোষ ও
স্ত্রী-নিষেকক্ষমতা লাভ। মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স আনুমানিক
প্রায় ৯ বছর এবং লক্ষণ না-পেলে আনুমানিক ১৫ চন্দ্রবছর বা সাড়ে ১৪ বছর
হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; মেয়েদের বয়ঃপ্রাপ্তির বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলো
হল রজঃচক্র, সিক্ত স্বপ্ন ও গর্ভধারণের ক্ষমতা লাভ।শালীনতা
- আরও দেখুন: আওরাহ এবং ইসলাম ও পোশাক
“বিশ্বাসী পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি তাদের জন্য পবিত্রতর। নিশ্চয়ই তাড়া যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত। এবং বিশ্বাসী নারীদের বলুন, যে তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং যৌন আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণভাবে যা প্রকাশ পায় তা ব্যতিরেকে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন তাদের মস্তকাবরনী(র একাংশ) তাদের বক্ষের উপর পরিধান করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাদী, কামনামুক্ত পুরুষ ও নারীদের গোপনীয়তা সম্পর্কে অজ্ঞ শিশুবালক ব্যতীত অন্য কারো কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমনভাবে পদচালনা না করে যাতে তাদের সৌন্দর্য যা লুকায়িত থাকে, তা প্রকাশ পায়। এবং হে সকল বিশ্বাসীগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেন তোমরা সফল হতে পারো। এবং তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তারা বিবাহ কর, এবং তোমাদের মধ্যে যে দাস ও দাসীরা উপযুক্ত তাঁদেরকেও বিবাহ দাও। তারা যদি, নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অণুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। আর যারা বিবাহে সামর্থ্যবান নয়, তারা যেন পবিত্রতা ও সংযম অবলম্বন করে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন।”
—আন-নূর ২৪ঃ৩০-৩৩
“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অণুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের জন্য গোপনীয়তার। এ সময়ে ছাড়া তোমাদের ও তাদের যোগাযোগে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খোড়ার জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।”অপর এক আয়াতে, উল্লেখ করা হয়েছে
—আন-নূর ২৪:৫৮-৬১
সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা অণুগত এবং বিনম্র ৷ স্বামীর অণুপস্থিতিতে তারা তার অধিকার ও গোপন বিষয় রক্ষা করে যেভাবে স্বয়ং আল্লাহ তা রক্ষা করেছিলেন।হাদিসেও শালীনতা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কুরআনের ন্যায় হাদিসেও শালীনতা ও সতীত্বের জন্য আবশ্যক হিসেবে বিবাহকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ,
—সূরা নিসা ৪:৩৪
আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ বর্ণিত, আল্লাহর নবী বলেন, "হে তরুণগণ, তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে তারা বিয়ে কর, কারণ এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং শালীনতাকে সুরক্ষিত রাখে এবং যারা সামরথবান নয় তারা যেন সাওম (উপবাস) পালন করে, কারণ এটি তাদের জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে।"সুনান আবু দাউদে বর্ণিত,
—সহীহ বুখারী, ৭:৬২:৪ (ইংরেজি)
মুয়াবিয়া ইবনে হায়যাহর সূত্র হতে আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা কর্তৃক বর্ণিত, “একবার আমি রাসুলুল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আমাদের সতর কার কাছে গোপন রাখবো কাকে দেখাতে পারবো?” তিনি উত্তর দিলেন, “স্ত্রী এবং কৃতদাসী (উপপত্নী) ব্যতীত সকলের নিকট গোপন রাখবে।” আমি আবার প্রশ্ন করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল, যখন সবাই মিলেমিশে থাকবে?” তিনি উত্তর দিলেন, “যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয় কেও তোমার সতর দেখবে না, তবে এরূপ করবে কেও যেন তোমার সতর দেখতে না পারে।” আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল, যখন আমাদের কেউ নির্জনে থাকবে?” তিনি বললেন, “মানুষের চাইতেও আল্লাহকে বেশী লজ্জা করবে।”একটি হাদিসে বলা হয়েছে[৭],
—সুনান আবু দাউদ, ৩১:৪০০৬ (ইংরেজি)
আল্লাহর রাসুল বলেন: বিচার দিবসে আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট হবে সেই পুরুষ যে তার স্ত্রীর কাছে যায় এবং স্ত্রীও তার কাছে আসে, আর তারপর সেই পুরুষ তার স্ত্রীর গোপনীয়তা অপরদের কাছে প্রকাশ করে দেয়।অন্য আরেকটি হাদিসে রয়েছে,
—সহিহ মুসলিম - ৩৩৬৯
নবী বলেন, "অপরিচিত পুরুষ ও অপরিচিত নারী একাকী একত্রে থাকলে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শয়তান (অনিষ্ট) অবস্থান করে।"অন্য আরেকটি হাদিসে রয়েছে,
—মুসনাদ আহমাদ, জামি তিরমিজি
আবু সাইদ খুদরী তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল বলেছেন, “কোন পুরুষ যেন অন্য কোন পুরুষের সতরের দিকে দৃষ্টি না দেয়, এবং কোন স্ত্রীলোক যেন অন্য কোন স্ত্রীলোকের সতরের দিকে দৃষ্টি না দেয়। আর কোন পুরুষ যেন অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে নিম্নবাস ছাড়া একই কাপড়ের নিচে না শয়ন না করে এবং কোন স্ত্রীলোক যেন অন্য কোন স্ত্রীলোকের সঙ্গে নিম্নবাস ছাড়া একই কাপড়ের নিচে শয়ন না করে।”অপর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
—সুনান আবু দাউদ, ৩১:৪০০৭ (ইংরেজি), সুনান আবু দাউদ, ৩১:৪০০৮ (ইংরেজি)
মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন: “সাত বছর বয়সে তোমার সন্তানদের সালাতের নির্দেশ দাও, আর ১০ বছর বয়স থেকে তাদের প্রহার করো যদি তারা সালাত আদায় না করে, এবং (সেই বয়সে) তাদের বিছানা (শয়নের স্থান) আলাদা করে দাও।”এছাড়াও শাস্তিযোগ্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আল-মুয়াত্তা নামক গ্রন্থের একটি হাদিস:
—আবু দাউদ ৪৯৫
জায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, “আল্লাহ্র রাসূল (সা) এর সময়ে এক লোক যখন স্বীকার করল যে, সে ব্যভিচার করেছে, তখন আল্লাহ্র রাসূল (সা) একটি চাবুক চাইলেন। যখন তাকে একটি ছেঁড়া/পুরানো চাবুক দেওয়া হল তিনি বললেন, “এটার চেয়ে ভাল নেই?” তখন একটি নতুন চাবুক আনা হলে তিনি বললেন, “এটার চাইতে একটু পুরাতন দেখে নিয়ে আস”। এরপর এমন একটা চাবুক আনা হল যেটা ছিল (ব্যবহারের ফলে) একটু পুরানো/নরম। তখন তিনি ওটা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে একশো দোর্রা মারার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, “হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্র সীমা অতিক্রম করোনা। কেউ এই ধরনের ঘৃণিত কোন অপরাধ করে বসলে, সে যেন তা গোপন রাখে, কারন কেউ যদি তা প্রকাশ করে বসে, তবে আমরা তার ব্যাপারে বর্ণিত শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহ্র কিতাবের বিধান কার্যকর করব”"এছাড়াও, একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,
—আল-মুয়াত্তা, ৪১ ২.১২ (ইংরেজি)
"যখন কোন জাতির মধ্যে যৌন অনৈতিকতা/অশ্লীলতা (বহুগামিতা) প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে প্লেগ মহামারীর আকারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব ঘটে, যা পূর্বেকার লোকেদের মাঝে দেখা যায় নি।"
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ৪,০১৯
বৈবাহিক যৌনাচার
মূল নিবন্ধগুলি: ইসলামী বৈবাহিক আইনশাস্ত্র এবং ইসলামে বিবাহ
ইসলামী আইন অণুসারে, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক ও যৌনমিলন বৈধ করা হয়। এবং দৈহিক ও মানসিক যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ককে আবেগীয় সম্পর্ক অথবা প্রজনন প্রক্রিয়ায় সীমিত রাখা হয় নি, বরং ইসলামে বিবাহকে এজন্য ব্যপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে যে, এটি কোন ব্যক্তির যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের জোগান দেয়।
ইসলামে যৌনতাকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত পরিসরের নীতিমালা দেয়া হয়েছে; যাই
হোক,কুরআন ও হাদিসে বিবাহের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ যৌনতার
বহু নীতিমালার সূত্র প্রদান করা হয়েছে, যেগুলো মানবজাতির কল্যাণ ও তাদের
প্রাকৃতিক যৌন প্রবণতাকে উচ্চ মর্যাদা প্রদান করে। সূরা বাকারায় (২ঃ২২২)
বৈবাহিক জীবনে যৌনতাকে সরাসরি অণুমোদন দেয়া হয়েছে:"যখন তারা [i.e. স্ত্রীরা] তাদের নিজেদের রজঃস্রাব হতে পরিচ্ছন্ন করে নেয়, তখন তোমরা তাদের সাথে সম্মিলিত হও যেভাবে ঈশ্বর তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।"বলা হয়েছে যে:
—(২ঃ২২২)
"যারা তাদের সতীত্বকে (গোপন অঙ্গকে, অবৈধ যৌন কর্মকাণ্ড থেকে) নিরাপত্তা দেয় তাদের স্ত্রীর বা যা তাদের যা তাদের হাত ধারণ করে (যুদ্ধবন্দী ও দাসীগণ) তাদের হতে ব্যতীত, তারা দোষারোপ হতে মুক্ত।"পাশাপাশি, হাদিসের উৎসও বিবাহের মাধ্যমে বৈধপন্থায় যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের স্বীকৃত মর্যাদাকে অণুরূপভাবে ব্যাখ্যা করেছে। ওয়াসায়লুশ শিয়া সাহাবীদেরদের বিবাহে উৎসাহিতকরণের উদ্দেশ্যে বলা মুহাম্মাদের বানীকে উদ্ধৃত করেছেন, যা হল:
—[মুমিনুন ২৩ঃ৫-৬]
"হে যুবক পুরুষেরা, আমি তোমাদেরকে বিয়ে করার পরামর্শ দিচ্ছি।"
—ওয়াসায়লুশ শিয়া (vol. 14, p. 25)
এছাড়া হাদীসে আছে
"হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ আছে তাদের উচিত বিয়ে করা; এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। আর যাদের বিয়ে করার সামর্থ নেই তারা যেন রোজা রাখে, কেননা তা যৌন উত্তেজনাকে প্রশমিত করে।"ইসলামী যৌন ফিকহের অন্যতম ক্ষেত্র যাতে আলোচনায় খুব বেশি নিষেধাজ্ঞা নেই তা হল বৈবাহিক যৌন কর্মকাণ্ডের পন্থাসমূহ। ইসলামী আইনের অধীনে চর্চাকৃত যৌনসঙ্গম ও যৌনতার পদ্ধতিসমূহের সবগুলোই হাদিস থেকে এসেছে, যা প্রকৃতিগতভাবে নিষেধপ্রবণ নয়। এই হাদিসগুলোর মধ্যকার মূল প্রবণতা হল শয়নকক্ষে মুসলিমদের অণুসরণের জন্য প্রদত্ত বানী, যেগুলো "স্পষ্টভাবে দেখায় যে, স্বামী ও স্ত্রীকে পারস্পারিক উত্তেজনায় অংশ নেয়ার সময় সম্পূর্ণ স্বাধীনতা অণুভব করা উচিত যা পূর্বরাগ নামে পরিচিত। ইসলাম অণুসারে, যৌনকর্মের সময় নারীর সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াতে কোন প্রকারের দোষ নেই।" এই বানীগুলো পূর্বরাগ-এর পরামর্শ দেয় এবং সঙ্গমকালে বা পূর্বরাগের সময় ব্যবহৃত পদ্ধতির ধরনগুলোতে কোন বাস্তব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।
—(বুখারী, মুসলিম)
বিপরীতভাবে, যৌনসঙ্গমের একটি ক্ষেত্র যা সাধারণত নিষিদ্ধ তা হল পায়ুসঙ্গম।
সকল মুসলিম আইনবিদই একমত যে নিজ স্ত্রীর সাথেও পায়ুকাম নিষিদ্ধ, যার ভিত্তি হল এই হাদিসটি :
"তোমরা (পুরুষেরা) নারীদের সাথে পায়ুপথে সহবাস কোরো না।"নবী মুহাম্মাদ (সা) আরও বলেন,
—(আহমাদ, আত-তিরমিযি, আন-নাসায়ী, এবং ইবনে মাজাহে বর্ণিত)
"সে পুরুষ অভিশপ্ত, যে কোন নারীর সাথে পায়ুপথে সঙ্গম করে।"[ খুজাইমা ইবনে সাবিদ বর্ণনা করেন,
—(আহমাদ)
"আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন: আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না: তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে পায়ুপথে সঙ্গম করো না।"ইবনে আবাস বর্ণনা করেন: "আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন:
—(আহমাদ হতে বর্ণিত, ৫/২১৩)
"আল্লাহ সেই পুরুষের দিকে তাকাবেন না যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করেছে।"উপরন্তু, বলা আছে যে নবী মুহাম্মাদ (সা) একে ছোট "সডোমি(অজাচার)" বলে আখ্যায়িত করেছেন। (আন-নাসায়ী হতে বর্ণিত)
—(ইবনে আবি শাইবা হতে বর্ণিত, ৩/৫২৯, আত-তিরমিযীতে এটিকে বিশুদ্ধ হাদিস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ১১৬৫)
বর্ণিত আছে যে, মদিনার ইহুদিগণ বলতো যে, কেও যদি তার স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে জরায়ুপথে সঙ্গম করে তবে তার সন্তান ট্যাড়া চোখ নিয়ে জন্মাবে। সে সময়ে একদিন ওমর ইবনুল খাত্তাব নবী মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি!" মুহাম্মাদ (সা) প্রশ্ন করলেন, "কি তোমাকে ধ্বংস করেছে?" তিনি উত্তরে বললেন, "গত রাতে আমি আমার স্ত্রীকে পেছন দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছিলাম।," অর্থাৎ তিনি পেছন দিক থেকে তার স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সহবাস করেছিলেন।
নবী (সা) তাকে কিছু বললেন না। এরপর এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলঃ
"তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার (তোমাদের স্ত্রীদের সাথে জরায়ুপথে যেকোনোভাবে সঙ্গম করতে পারো কিন্তু পায়ুপথে নয়)। আর তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য আগেই কিছু পাঠাও (ভালো কাজ করো আথবা আল্লাহর কাছে পুণ্যবান সন্তানসন্তদি প্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করো) ও আল্লাহ্কে ভয় করো। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ্র সাথে নিশ্চয়ই তোমাদের (পরকালে) দেখা করতে হবে। আর (হে মুহাম্মাদ,) বিশ্বাসীদেরকে সুখবর দাও।"কুরআন 2:223উপরিউক্তে আয়াতে স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সঙ্গমকে শস্যক্ষেত্রে বীজ বপনের সাথে তুলনা করে এটি নির্দেশ করা হয়েছে যে, ইসলামে ইচ্ছেমত যে কোন পন্থায় শুধুমাত্র জরায়ুপথেই সঙ্গম করাকে অণুমোদন দেয়া হয়েছে, কারণ শস্যক্ষেত্রে বীজ বপনের ফলে যেমন ফসল উৎপন্ন হয় ঠিক সেভাবে জরায়ুপথে সঙ্গমের ফলেই সন্তানের জন্ম হয়।
এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী মুহাম্মাদ (সা) ওমর বিন খাত্তাবকে উত্তর দেন, "সামনে বা পেছনে যে কোন দিক থেকে [নিজের স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সংগম কর], কিন্তু পায়ুপথকে পরিহার কর এবং রজস্রাবকালে সঙ্গম থেকে বিরত থাকো।" (আহমাদ এবং তিরমিজী হতে বর্ণিত)
যৌনতায় সীমারেখা ও বিধিনিষেধসমূহ
চারটি ক্ষেত্রে বৈবাহিক সঙ্গমের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এগুলো হলঃ- পায়ুমৈথুন
- রজঃস্রাবকালীন সময়
- সন্তান জন্মের পর প্রথম চল্লিশদিন,
- রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় এবং হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সময়। হজ্জ বা ওমরা চলাকালীন সময়ে বিবাহ হলে তা সক্রিয় বলে গণ্য হবে না।
পবিত্রতা অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
মূল নিবন্ধ: ইসলামী যৌন পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক আইনশাস্ত্র
যৌনক্রিয়া বা সহবাসের সময় দম্পতির যৌনাঙ্গদ্বয়ের পারস্পারিক
অণুপ্রবেশ অথবা অণুপ্রবেশের পর বীর্যস্খলন হলে সহবাসের পর স্বামী ও স্ত্রী
উভয়ের পূর্ণরুপে ধর্মীয় পরামর্শ অণুযায়ী পূর্ণ শরীর স্নান বা গোসল করা প্রয়োজন, যাতে তারা পরবর্তী উপাসনা বা সালাতের পূর্বে ধর্মীয় পবিত্রতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।গোসলের
জন্য প্রয়োজন এমন পরিষ্কার ও দুর্গণ্ধবিহীন পবিত্র পানি যা ইতিপূর্বে
গোসল বা শৌচকাজে ব্যবহৃত হয় নি, এবং উপাসনার স্বার্থে পবিত্র হওয়ার
মনসংকল্প বিবৃতকরণের মাধ্যমে স্নানকার্যের সূচনা করা হয়। এরপর দেহের কোন স্থান শুকনো না থাকে এমনভাবে সম্পূর্ণ শরীরে পানি ঢালার পর দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করা হয়।উপবাস এবং রমজান
উপবাসের রাতে স্ত্রীগমণ তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে; তারা তোমাদের জন্য একটি পরিচ্ছদস্বরূপ ও তোমরা তাদের জন্য একটি পরিচ্ছদস্বরূপ; আল্লাহ জানেন যে তোমরা তোমাদের প্রতি অবিচার করেছিলে, তাই তিনি তোমাদের দিকে (করুণার সাথে) মুখ তুলে তাকিয়েছেন এবং তোমাদেরকে (এই কষ্ট থেকে) মুক্তি দিয়েছেন; তাই এখন থেকে তোমাদের স্ত্রীর সংস্পর্শে বসবাস কর এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা প্রার্থনা কর, ভোরবেলায় দিনের শুভ্রতা রাতের অন্ধকার থেকে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত খাও ও পান কর, এরপর (পরবর্তী) রাতের আগ পর্যন্ত উপবাস পূর্ণ কর, এবং মসজিদে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত রাখো; এগুলোই আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, তাই এগুলোর কাছে যেয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তার বার্তাকে স্পষ্ট করেছেন যেন তারা (মন্দের বিরুদ্ধে) সুরক্ষিত থাকতে পারে।রমজান মাসে ধর্মীয় উপবাস বা রোজার সময় যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ, এ সময় যৌনসঙ্গম করলে বা কোন কারণে বীর্যপাত ঘটালে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। যৌন উত্তেজনা বশত: বীর্য-তরল বা কামঃরস নির্গত হলে রোজা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।[তবে রোজাবিহীন অবস্থায় রাত্রিকালীন সময়ে তা নিষিদ্ধ নয়।
—কুরআন 2:187 ( অনুবাদ করেছেন শাকির)
বিবাহবহির্ভূত যৌনতা
মূল নিবন্ধ: যিনা
ইসলামী আইনশাস্ত্রে যেমন বৈবাহিক যৌনতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে, ঠিক
তেমনিভাবে বিবাহবহির্ভূত যৌনতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে কিছু আইন প্রণয়ন
করা হয়েছে। উপরন্তু, কুরআনে এই আইনগুলোর লিখিত নিশ্চয়তা রয়েছে।কুরআনের ২৪ (সূরা নূর):২-৩ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ইসলামী আইনে বিয়ে এবং উপপত্নীত্ব ব্যতীত অন্যান্য যৌন সম্পর্কসমূহ জিনা (ব্যভিচার) হিসেবে নিষিদ্ধ। উক্ত আয়াতসমূহে আরও বলা হয়েছে, অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে একশতটি বেত্রাঘাত প্রদান করতে হবে এবং উক্ত ব্যভিচারী নারী বা পুরুষ অপর ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকেই শুধুমাত্র বিয়ে করতে পারবে; পাশাপাশি বিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে (পরকীয়া) পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।ব্যভিচারের অভিযোগ প্রমাণ প্রসঙ্গে সূরা নিসার ১৫-১৬ আয়াতে চার জন পুরুষ সাক্ষী হাজির করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এবং সূরা নূরের ৪-৫ আয়াতের বলা হয়েছে যে, চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে অপারগ হলে অভিযোগকারীকে আশিটি বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রদান করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী আইনে উপপত্নীত্ব হল একমাত্র যৌনতা যা বিবাহবহির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও বৈধ বলে স্বীকৃত। মালিক ইবনে আনাস একটি বর্ণনায় বলেন যে, "ওমর বিন খাত্তাব বলেছেন যে যখন কোন কৃতদাসী তার মনিবের সন্তান জন্ম দেবে তখন সেই দাসী একজন "উম্মে ওয়ালাদ"-এ পরিণত হবে (সন্তানের মা, উপপত্নী)।"
বিবাহবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধকারী আইনের ন্যায়, কুরআন নারীদের কিছু শ্রেণীকে নির্ধারিত করেছে যাদের সাথে সঙ্গম করা পুরুষদের জন্য রহিত করা হয়েছে। সূরা নিসার ২২-২৪ নং আয়াতে মাতা, কন্যা, বোন, খালা, ফুফু, ভাগ্নি, ভাতিজি, দুধমাতা, দুধ্মাতার কন্যা, স্ত্রীর মাতা, স্ত্রীগণের অন্য স্বামীর কন্যাগণ, পুত্রদের স্ত্রীগণ এবং ইতোমধ্যে বিবাহিত নারীদেরকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি, সূরা বাকারার ২২২ আয়াতে ঋতুবর্তী নারীদের সঙ্গে সঙ্গম করতে নিষেধ করা হয়েছে।
পতিতাবৃত্তি
পতিতাবৃত্তি ইসলামে নিষিদ্ধ। কুরআনে বলা হয়েছে,আর শুধু পার্থিব জীবনে তোমরা কিছু স্বার্থ লাভ করার উদ্দেশ্যে তোমাদের দাসীদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করো না, যদি তারা সতীত্ব বজায় রাখতে চায়।কোন মুসলিম যদি এ কাজে সম্পৃক্ত হয় অবে তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে আরবে এর প্রচলন ছিল। ইসলাম আগমনের পর নবী মুহাম্মাদ সকল স্তরে পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। আবু মাসুদ আল আনসারি বর্ণিত:
—কুরআন 24:33
"আল্লাহর বার্তাবাহক কুকুরের মূল্য, পতিতাবৃত্তি থেকে অর্জিত অর্থ এবং জাদুকরের আয়করা অর্থ নিতে নিষেধ করেছেন।"।তবে, দাসপ্রথার সময়কালে উপপত্নীত্ব নামক যৌন দাসত্বকে ইসলামে পতিতাবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা হত না এবং মধ্যযুগে এবং আধুনিক যুগের সূচনাকালে আরব দাস ব্যবসার সময় তা বহুলভাবে প্রচলিত ছিল, এসময় ককেশাস, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের মহিলা ও নারীদেরকে বন্দী করে নিয়ে আসা হতো এবং আরব বিশ্বের হেরেমগুলোতে উপপত্নী হিসেবে পরিবেশন করা হতো। ইবনে বতুতা তার ভ্রমণকথায় বহুবার দাসী কেনার বা উপহার পাবার কথা উল্লেখ করেছেন।
—সহীহ বুখারী, ৩:৩৪:৪৩৯ (ইংরেজি)
শিয়া মুসলিমদের মতানুযায়ী, নবী মুহাম্মাদ নিকাহ মুতাহ নামক নির্দিষ্টকালের জন্য বিয়ের অণুমতি দিয়েছিলেন — যা ইরাক ও ইরানে এখনো সেখানকার যৌনকর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ পতিতাবৃত্তির বিকল্প বৈধ মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে সুন্নি মুসলিমগণের বক্তব্য হল, মুতাহ বিয়ের চর্চা নবী মুহাম্মাদ নিজেই বাতিল করেছিলেন এবং খলিফা আবু বকরের সময় তা পুনরাবির্ভাব ঘটার পর খলিফা ওমর পুনরায় এটি নিষিদ্ধ করেছিলেন।
" আয়াশ ইবনে সালামাহ তার পিতার সূত্রে বলেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা) আওতাস যুদ্ধের বছর তিনদিনের (মুতাহ) বিবাহের অণুমতি দান করেছিলেন। তারপর তিনি তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে খলিফা ওমরও এই কাজ করতে নিষেধ করেন।"
—বুখারী
সডোমি
মূল নিবন্ধ: পায়ুসঙ্গমের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
নবী লূত-এর সম্প্রদায়ের "সীমালঙ্ঘনমূলক কাজগুলোকে" সডোমি বলা হয়, এগুলো হল অজাচার, সমকামিতা, পশুকামিতা ও পায়ুসঙ্গম। কুরআনে লুতের সম্প্রদায়ের ঘটনার মাধ্যমে সডোমিকে উল্লেখ করা হয়েছে।। নবী মুহাম্মাদ (সা) তার অণুসারীদের মাঝে লূত-এর সম্প্রদায়ের
এই সকল "সীমালঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড" ছড়িয়ে পড়ার ব্যপারে সতর্ক করেছেন এবং
তার অণুসারীদের মাঝে এসব কর্মে জড়িত ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার আদেশ
দিয়েছেন। আবু বকর তার খিলাফতের সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের উপর দেয়াল
ধ্সিয়ে দিতেন এবং আলী তার খিলাফতের সময় এদের আগুনে পুড়িয়ে মারতেন।
ইসলামী বিধান অণুযায়ী মানবদেহে পায়ূতে লিঙ্গ প্রবেশ হারাম। নিজ স্ত্রীর সঙ্গেও পায়ূমৈথুন হারাম বা নিষিদ্ধ। কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে পায়ুসঙ্গমের প্রস্তাব স্ত্রীর কর্তব্য হল তা বাধা
দেয়া, এবং স্বামী যদি জোর করে তবে স্ত্রী চাইলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন
করতে পারে। স্বামী স্ত্রীর পায়ুসঙ্গমে বিবাহ বাতিল না হলেও স্ত্রী যদি চায় এ অভিযোগে তালাকের আবেদন করতে পারবে।ইসলামী বিধান অণুসারে, পায়ুসঙ্গম কবিরা গুনাহ বা সর্বোচ্চ পাপসমূহের
মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে, কিছু মুসলিম দেশে সডোমি মৃত্যুদণ্ড-যোগ্য
অপরাধ, যাদের অন্যতম হল সৌদি আরব, ইয়েমেন ও নাইজেরিয়ার শরিয়া আদালত।সমকাম
মূল নিবন্ধগুলি: যিনা § সমকামিতা এবং সমকামিতা ও ইসলাম
সমলিঙ্গীয় যৌনাচার বা সমকামিতা ইসলামে নিষিদ্ধ, এছাড়াও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি নিকৃষ্টতম পাপ। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি বিকৃত যৌনাচার যা সৃষ্টিগতভাবে "মানব জাতিতে" যৌনতার বিপরীতকামী-স্বাভাবিকতা-বিবর্জিত এবং মানব যৌনতার মৌলিক ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য "প্রাকৃতিকভাবে সহজাত প্রজনন"-এর পরিপন্থী। ইসলাম কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থাৎ বৈধভাবে বিবাহিত নারী ও পুরুষের মধ্যে এবং মুসলিম পুরুষ ও তার উপপত্নীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অণুমোদন করে।এর বাইরে সকল যৌনাচার ইসলামে নিষিদ্ধ। সমলিঙ্গীয় যৌনাচারের কারণে অতীতে নবী লূত-এর সম্প্রদায়কে ঐশী বিপর্যয়ের ধ্বংস করে দেয়ার সাবধানকারী ঘটনা কুরআনের একাধিক সূরাও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া নবী মুহাম্মদ(সাঃ) সমকামীদের অভিসম্পাত করেছেন, নারী ও পুরুষ
উভয়ের ক্রস জেন্ডার বিহেভিয়ারকে (আন্তঃলিঙ্গীয় আচরণ, নারী কর্তৃক
পুরূষের পোশাক বা আচরণ এবং পুরুষ কর্তৃক নারীর পোশাক বা আচরণ অণুকরণ) অপরাধ
হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সমাজকে সমকামিতার প্রভাবমুক্ত রাখতে সমকামীদেরকে
(পুরুষ পায়ুকামী জোড়দের) মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন[: এছাড়া চারখলিফা সহ প্রাথমিক খলিফাগণও সমকামী জোড়কে বিভিন্নভাবে প্রাণদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে এ ব্যাপারে ঐকমত্য প্রদর্শন করেছেন। তবে সমকামিতা নিষিদ্ধ হলেও প্লেটোনিক সম্পর্ককে
ইসলামে ব্যাপকভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। ইসলামে সমকামিতা বিষয়ক
আলোচনা মূলত পুরুষদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত; ফুকাহাগণ (ইসলামী
আইনবিদ) এব্যাপারে সম্মত হয়েছেন যে "নারী সমকামিতার জন্য কোন হুদুদ শাস্তি নেই, কারণ এটি জিনা নয়। তবে একটি তাজির শাস্তি অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে, কারণ এটি একটি পাপ..'".যদিও নারীদের সমকামিতার কথা ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায় না বললেই চলে, আল-তাবারি
আল হাদির শাসনকালে তার কার্যক্রম নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত ও সমালোচিত
কাহিনীর সংকলনে উক্ত খলিফার হেরেমে একজোড়া সমকামী দাসীর অপ্রচলিত শাস্তির
কথা উদ্ধৃত করেন।কিছু আইনবিদ মনে করেন যৌনসঙ্গম একমাত্র সে ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব যার শিশ্ন বা শিশ্নের ন্যায় নিম্নাঙ্গ আছে;তাই যৌনমিলনের উক্ত সংজ্ঞানুযায়ী এটি সঙ্গীর ছিদ্রপথে ন্যূনতম পরিমাণ
হিসেবে অন্ততপক্ষে শিশ্নাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করানোর উপর নির্ভরশীল।
যেহেতু নারীদের শিশ্ন বা অণুরূপ কোন নিম্নাঙ্গ নেই এবং একে অপরের ছিদ্রপথে
অঙ্গ সঞ্চালনে সক্ষম নয়, তাই উক্ত সংজ্ঞানুযায়ী তারা একে অপরের সঙ্গে
শারীরিকভাবে জিনায় লিপ্ত হতে অক্ষম বলে গণ্য হয়।উপপত্নী
মূল নিবন্ধগুলি: ইসলাম ধর্মে দাসত্ব এবং মা মালাকাত আইমানুকুম
উপপত্নীত্ব (সুরাইয়া) হল কোন পুরুষের সাথে তার "অধিকৃত ক্রীতদাসী (জারিয়া) এবং অধিকৃত যুদ্ধবন্দী দাসী"র যৌন সম্পর্ক। "সুরাইয়া" শব্দটি কুরআনে উল্লেখিত হয় নি, সেখানে মূলত দাসদাসী এবং উপপত্নীদের বোঝাতে মোট ১৫ বার "মা মালাকাত আইমানুকুম"
(তোমার ডান হাত যার মালিকানা ধারণ করে) বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে।
ইসলাম পূর্ব আরবে দাসপ্রথা চলাকালীন সময়ে উপপত্নীত্ব প্রচলিত ছিল এবং
ইসলাম আগমনের পর এর উপর কিছু সীমারেখা ও নীতি নির্ধারণ করে একে বৈধতা দেয়া
হয়।
একজন মুসলিম পুরুষ তার ক্রয়কৃত মুসলিম বা অমুসলিম ক্রীতদাসী বা অধিকৃত
মুসলিম বা অমুসলিম যুদ্ধবন্দিনীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়তে পারবে, গর্ভধারণ
এড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ (কয়শাস ইন্টারাপশাস) করতে পারবে এবং তার সন্তানের
পিতা হতে পারবে, তবে যদি উক্ত দাসী তার সন্তানের মা হয় তবে সেই দাসী উম্মে
ওয়ালাদ (সন্তানের মা) উপাধি পাবে, যার ফলে তার মালিক পর তাকে আর অন্য
কোথাও বিক্রি করতে পারবে না। একজন মুসলিম পুরুষ তার নিজের মালিকানাধীন
একাধিক দাসী এবং/অথবা যুদ্ধবন্দীনীর সাথে উপপত্নীত্বের সম্পর্ক করতে পারবে,
কিন্তু সে তার স্ত্রীর অধিকৃত দাসীর সাথে এ ধরনের সম্পর্ক করতে পারবে না।
একজন মুসলিম চাইলে তার অধিকৃত দাসী/বন্দীনীকে বিয়ে করতে পারবে, তবে বিয়ের
পূর্বে তাকে দাসত্ব হতে মুক্তি দিতে হবে। হাদিসেও দাসীকে মুক্ত করে তাকে
বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে।উপপত্নীদের গর্ভে জন্ম নেয়া তার সন্তান বৈধ বলে বিবেচিত হবে এবং তার মৃত্যুর পর উপপত্নী ও তার সন্তানগণ স্বাধীন বলে বিবেচিত হবে এছাড়াও, বিবাহিত স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের অণুরুপ তারাও একই পরিমাণে উক্ত মুসলিম পুরুষের সম্পত্তির ভাগ পাবে।ধর্ষণ
মূল নিবন্ধগুলি: যিনা § ধর্ষণ এবং ইসলামে নারী
ধর্ষণ বা যিনা-আল জিবর
হল জোরপূর্বক বিবাহ বহির্ভূত জোরপূর্বক যৌনসঙ্গম, যা ইসলামে নিষিদ্ধ,
ইসলামী আইন অণুযায়ী এটি হিরাবাহ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তিরমিজি ও আবু
দাউদের বর্ণিত একটি অভিন্ন হাদিসে নবী মুহাম্মাদ কর্তৃক কোন এক ধর্ষককে
শাস্তিস্বরূপ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার কথা উল্লেখিত হয়েছে।আলকামা তাঁর পিতা ওয়াযেল থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সা) এর যুগে জনৈক মহিলা সালাত আদায়ের জন্য গমনকালে পথিমধ্যে তার সাথে একজন পুরুষের দেখা হলে, সে ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। সে মহিলা চিৎকার দিলে, তার পাশ দিয়ে গমনকালে জনৈক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চায়। তখন সে মহিলা বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ অপকর্ম করেছে। পরে তার পাশ দিয়ে মুহাজিরদের একটি দল গমনকালে সে মহিলা তাদের বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ কাজ করেছে। তারপর তারা গিয়ে এক ব্যক্তিকে ধরে আনে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, সে-ই এরূপ করেছে। এরপর তারা সে ব্যক্তিকে উক্ত মহিলার কাছে উপস্থিত করলে, সেও বলেঃ হ্যাঁ। এই ব্যক্তিই এ অপকর্ম করেছে। তখন তাঁরা সে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ এর নিকট নিয়ে যায়। নবী করীম (সা) যখন সে ব্যক্তির উপর শরীআতের নির্দেশ জারী করার মনস্থ করেন, তখন মহিলার সাথে অপকর্মকারী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় এবং বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি -ই অপকর্ম করেছি। তখন নরী করীম (সা) সে মহিলাকে বলেনঃ তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমার অপরাধ মাফ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি (সা) ভুলভাবে ধরে আনা লোকটির সাথে উত্তম ব্যবহার করেন এবং ধর্ষক ব্যক্তিটির জন্য বলেনঃ একে পাথর মেরে হত্যা কর। তিনি (সা) আরও বলেনঃ লোকটি এমন তাওবা করেছে যে, সমস্ত মদীনাবাসী এরূপ তাওবা করলে, তা কবূল হতো।তাই হাদিসের বিবৃতি অণুযায়ী অধিকাংশ আইনবিদের বক্তব্য হল, ধর্ষকের শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড। তবে কিছু আধুনিক আইনবিদ মনে করেন, ধর্ষকের শাস্তি একজন জিনাকারীর মতই, অর্থাৎ ধর্ষক বিবাহিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড এবং অবিবাহিত হলে তাকে একশত বেত্রাঘাত প্রদান এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দিতে হবে: এবং উভয় ক্ষেত্রেই শাস্তি জনসম্মুখে প্রদান করতে হবে। ধর্ষিতাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়া হবে না, কারণ ধর্ষিতাদের সাধারণত প্রতিরোধ ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল হয়ে থাকেন।
—যামী আল-তিরমিযি, 17:37, সুনান আবু দাউদ, ৩৮:৪৩৬৬ (ইংরেজি)
মুখমৈথুন
ইসলামে বৈবাহিক মুখমৈথুনকে কিছু আইনবিদ মাকরুহ তাহরীমী বা কঠোরভাবে বর্জনীয় বলে স্বাব্যস্ত করেছেন।এর পেছনে কারণটি কুরআন ও হাদিসে একে উৎসাহিত করা হয় নি সে কারণে নয়, বরং তা হল শালীনতা, পবিত্রতা (ইসলামে ধর্মীয় রীতিনীতিগত পবিত্রতা বা তাহারাত) ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক দ্বন্দ্ব। এর পেছনে সবচেয়ে সাধারণ দাবিটি হল,যে, মুখ এবং জিহ্বা কুরআন পঠন ও ঈশ্বরের স্মরণে ব্যবহৃত হয়, তাই তা অপবিত্রতায় ব্যবহার করা উচিত নয়। চারটি সুন্নি মাজহাবের পণ্ডিতগণের মধ্যে বীর্য নিঃসরণ পবিত্র কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কিছু পণ্ডিত একে অপবিত্র মনে করেন এবং কিছু পণ্ডিত করেন না।স্বমেহন
মূল নিবন্ধ: ইসলাম ও হস্তমৈথুন
অধিকাংশ ইসলামী আইনবিদের মতে, সাধারণভাবে হস্তমৈথুন বা স্বমেহন হল হারাম বা নিষিদ্ধ। তবে হস্তমৈথুন নিয়ে ইসলামী পণ্ডিতগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে।
কুরআনে হস্তমৈথুন নিয়ে কিছু বলা হয় নি, হাদিসে তা উল্লেখ থাকার দাবি করা
হলেও উক্ত দাবি সর্বসম্মত নয়। প্রাথমিকযূগের অধিকাংশ আলেমগণ একে নিষিদ্ধ
বলেছেন এবং আল-তারিবিয়াহসহ পরবর্তী সময়ের কিছু আলেম ব্যভিচারের আশঙ্কা
থাকলে বিকল্প হিসেবে এর অণুমতি দিয়েছেন।আহমদ ইবনে হাম্বলের মতে বৈধ যৌনসঙ্গীর অভাবে সমস্যায় ভুগছেন এমন নারী পুরুষ, মুসাফির ও বন্দীদের জন্য তা বৈধ।পূর্ব থেকেই একটি অভিমত প্রচলিত ছিল যে, ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা
থাকলে বিকল্প হিসেবে হস্তমৈথুনের অণুমতি দেয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ, প্রাথমিক ইসলামী যুগের সকল ইসলামী পণ্ডিতগণ এর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
আরোপে সর্বসম্মতভাবে রাজি ছিলেন না। হস্তমৈথুনকারীদের মধ্যে যারা নিজ
সতীত্ব রক্ষার জন্য হস্তমৈথুন করে এবং যারা সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও
আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করতে হস্তমৈথুন করে, এই দুই দলকে ফিকহবিদগণ আলাদা আলাদা
দৃষ্টিতে বিচার করে থাকেন।রাত্রিকালীন নির্গমন
মূল নিবন্ধ: রাত্রিকালীন নির্গমন § ইসলামী অভিমত
ইসলামে রাত্রিকালীন নির্গমন পাপ নয়; অধিকন্তু, (রমজান বা অন্য সময়ে)
উপবাসকারী কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রাগমোচন ঘটান (স্বমেহন বা সঙ্গমের
মাধ্যমে) তবে তার উপবাস ভঙ্গ বলে বিবেচিত হবে, কিন্তু রাত্রিকালীন
নির্গমনের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। তবে সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধিবিধান
পালনের জন্য স্নান করার প্রয়োজনীয়তা বহাল থাকে। মুসলিম পণ্ডিতগণ
রাগমোচনকে ধর্মীয় অপবিত্রতা সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখেন, এমন একটি দশা যাকে
জুনুব বলা হয়; যার অর্থ কোন মুসলিম যার রাগমোচন ঘটেছে তাকে অবশ্যই কুরআন
পঠন বা সালাত আদায়ের পূর্বে একবার গোসল করতে হবে।রজঃস্রাব
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।রজঃস্রাবকে (হায়েজ/নিফাস) ইসলামে নারীর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। রজঃস্রাব দশায় নারীদের সালাত ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হতে অব্যহতি দেয়া হয়। পাশাপাশি গোসলের মাধ্যমে নিয়মিত পবিত্র হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্ত্রীর রজ:স্রাব কালে যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ, তবে যৌনমিলন ব্যতীত শারীরিক মিলন নিষিদ্ধ নয়। ইবনে কাসির, নামক একজন হাদিসবিদ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে রজঃস্রাবী স্ত্রীদের সঙ্গে মুহাম্মাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এই হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে, মুহাম্মাদ (সা) রজঃস্রাব চলাকালে জরায়ুজ সঙ্গম ছাড়া দাম্পত্য সম্পর্কের অন্য সব বৈধ আন্তরিক কর্মকাণ্ডকে অণুমোদন দিয়েছেন। রজচক্র শেষ হওয়ার পর ধর্মীয় কাজ ও দাম্পত্য সম্পর্কে অংশ নেয়ার পূর্বে নারীদেরকে স্নান (গোসল )করে পরিচ্ছন্ন হতে হয়।
—কুরআন 2:222 ( অনুবাদ করেছেন শাকির)
জন্মনিয়ন্ত্রণ
কুরআনে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে মুসলিমগণ হাদিসকে নির্দেশ করে থাকেন। এই প্রশ্নে মুহাম্মাদের সাহাবীদের ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ যাবির, মুহাম্মাদের একজন সাহাবী, একটি হাদিস বর্ণনা করেন যাতে একজন লোক মুহাম্মাদের কাছে এসে বলে"আমার একজন দাসী আছে ... আমি তার সঙ্গে সঙ্গম করেছি, কিন্তু আমি আশঙ্কা করি সে সন্তানসম্ভবা না হয়ে পড়ে। নবী উত্তর দিলেন, তুমি যদি চাও তবে তার সঙ্গে আযল (কয়শাস ইন্টারাপশাস, সঙ্গমকালে বীর্যপাতের পূর্বে শিশ্ন প্রত্যাহার) চর্চা করো, ...″এ কারণে, হাদিস অণুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের "প্রত্যাহার পদ্ধতি" (কয়শাস ইন্টারাপশাস) অণুমোদিত। মুসলিম আইনবিদগণ এর অণুমতির ব্যাপারে সম্মতি দেনএবং এর সঙ্গে তুলনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্যান্য পদ্ধতিগুলোকেও অণুমোদন দেন (উদাহরণ: কনডমের ব্যবহার)।
এর সমর্থনে অন্যান্য হাদিসগুলো হল:
কোন এক লোক বলল: "হে আল্লাহর রাসুল, আমার একজন দাসী আছে এবং আমি তার সঙ্গে আযল করি, আর সে সন্তানসম্ভবা হোক তা আমি চাই না।...ইহুদিরা বলে যে, আযল করা হল জীবিত কন্যাদের অল্প পরিমাণে দাফন করার মত।" নবী বললেন: "ইহুদিরা মিথ্যা বলে। আল্লাহ যদি তা সৃষ্টি করতে চায়, তবে তুমি চাইলেও কোনভাবেই তা ফেরাতে পারবে না।"
—সুনান আবু দাউদ, ১১:২১৬৬ (ইংরেজি)
"হে আল্লাহর নবী! আমরা আমাদের গণিমতের অংশে নারী যুদ্ধবন্দী পেয়েছি, আযলেরর ব্যপারে আপনার মন্তব্য কি?" নবী বললেন, "তোমরা আসলেই কি তা কর? এটা না করাই তোমাদের জন্য ভালো। আল্লাহ যে সকল প্রাণ সৃষ্টি করার জন্য মনস্থির করেছেন, তা যেভাবেই হোক সৃষ্টি হবেই। "
—সহীহ বুখারী, ৩:৩৪:৪৩২ (ইংরেজি)
গর্ভপাত
মূল নিবন্ধ: ইসলাম ও গর্ভপাত
গর্ভপাত নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম আইনশাস্ত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে, যদিও অধিকাংশ আইনবিদই একে নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করে থাকেন।
সাধারণ অবস্থায়, ইসলামে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। সকল আলেমই গর্ভে সন্তান আসার পর
গর্ভপাত না করার অভিমত দিয়ে থাকেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে
গর্ভপাতের অণুমতি দেয়া হয়, উদাহরণস্বরূপ মায়ের স্বাস্থ্য যদি
(গুরুতরভাবে) হুমকির সম্মুখীন হয় এবং মায়ের জীবন বাঁচাতে যদি গর্ভপাতের
প্রয়োজন হয় তবে। বিশ্বের সকল মুসলিম একমত যে, মায়ের জীবন ভ্রুনের জীবন
হতে অধিক গুরুত্বের দাবি রাখে।
"গর্ভপাতের ছোট ক্ষতিকে গ্রহণ করে মাতৃমৃত্যুর বড়ক্ষতিকে রোধ করা উচিত"
এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে মুসলিম আইনবিদগণ এমন পরিস্থিতিতে গর্ভপাতের
অণুমতি দিয়ে থাকেন। এরকম ক্ষেত্রে, একজন চিকিৎসককে আলেমের তুলনায় অধিক
উত্তম বিচারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কোন কারণ ব্যতিরেকে অনাকাঙ্ক্ষিত
গর্ভপাত সাধারণত হারাম (নিষিদ্ধ)। নবজাতক ভরণ-পোষণের অর্থের অভাবে হলেও
ইসলামের দৃষ্টিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে,... স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই,
—কুরআন 6:151
অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে জীবিকা দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।এছাড়াও অনেক আলেমের মতে, গর্ভপাতের অণুমতির ক্ষেত্রে ভ্রুনের বয়স চার মাসের কম হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নবী মুহাম্মাদ মাতৃগর্ভে মানব শিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন,
—কুরআন 17:31
তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান আপন মাতৃগর্ভে বীর্যের আকারে ৪০ দিন, জমাট বাধা রক্তে পরিণত হয়ে ৪০ দিন, গোশত আকারে ৪০ দিন। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান এবং চারটি বিষয়ে আদেশ দেন যে, তার (শিশুর) কর্ম, জীবিকা, আয়ুষ্কাল ও ভালো না মন্দ সব লিপিবদ্ধ কর। অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়’।অর্থাৎ, হাদিসের বিবৃতি অণুযায়ী, ৪ মাস বয়সে সন্তান মাতৃগর্ভে জীবিত হয়ে ওঠে এবং এ কারণে অনেক আলেম ৪ মাসের বেশি বয়সের ভ্রুনের গর্ভপাত করতে নিষেধ করে থাকেন।
— সহিহ বুখারী, হাদিস নং- ৩২০৮
No comments:
Post a Comment